Headlines
Loading...
Science vs Superstition in bengali | বিজ্ঞান ও কুসংস্কার পার্ট ১

Science vs Superstition in bengali | বিজ্ঞান ও কুসংস্কার পার্ট ১

SCIENCE-vs-SUPERSTITION

প্রায়শই দেখতে পাওয়া যায় বিজ্ঞান ও কুসংস্কার নিয়ে নানান রকম আলোচনা । যেগুলি এখনো গ্রামগঞ্জে বিভিন্ন জায়গায় প্রচলিত হয়ে আসছে । আমাদের দিদা ঠাকুমারা যারা আছেন তারা এখনও বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের করতে বাধা দেয় কিংবা করতে বলেন । আমরা যেগুলিকে কুসংস্কার বলে মনে করে থাকি। তারই মধ্যে আমরা আজ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করব । আমরা আজ সেই কুসংস্কার গুলি কে বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে দেখার চেষ্টা করব।

 ● বিবাহে নববধূকে শাঁখা পলা পরতে হয় কেন?

জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, শাঁখের যেকোন জিনিষ ব্যবহারে শরীর সুস্থ ও নীরোগ থাকে। মন শান্ত ও সুন্দর হয়। আর ১৬ রতি উৎকৃষ্ট পলা ধারণে মেয়েরা অকাল বৈধব্যের হাত থেকে রক্ষা পায়। এছাড়া লাল পলা ধারণে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনায় বাধা, দুর্ঘটনা, মামলা মোকদ্দমা ইত্যাদি থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়। অবশ্য এখানে পলা বলতে প্রবালকে বোঝানো হয়েছে। প্রবালের প্রচণ্ড দামের জন্য আজকাল প্লাস্টিকের পলা ব্যবহার করা হয় যা মোটেই যুক্তিযুক্ত নয়। এছাড়া আজকাল শাঁখা-সিঁন্দুর ইত্যাদি দ্বারা কোন নারী সধবা কিনা তাও বোঝা যায়। অর্থাৎ এগুলি এখন সধবার লক্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

● ‘আইবুড়ো’ ভাত খাওয়ানো হয় কেন?

বিয়ের আগেরদিন দুপুরে, অবিবাহিত অবস্থায় শেষবার ভাত খাওয়ার নাম আইবুড়ো ভাত। পাত্র-পাত্রীর বন্ধু বান্ধবী যাদের বিয়ে হয় নি তারাও একসঙ্গে খেতে বসতে পারেন।

এই লোকাচারের পিছনে যে যুক্তি পাই তা হলো, সে যুগে সম্ভবতঃ বিবাহের পরে ছেলেরা পৃথকভাবে বাস করতো অর্থাৎ যৌথ পরিবারে বাস করতো না। মেয়েদেরকে স্বাভাবিকভাবেই স্বামীর গৃহে যেতে হতো। অর্থাৎ তারা যেন, আত্মীয়স্বজনদের কাছে পর হয়ে যেত। তাই পর হয়ে যাওয়ার আগে আত্মীয়স্বজনরা সাধ করে ভালো ভালো খাবার তাদের খাওয়াতো,যেমন বিদায়ের পূর্বে কাউকে ভালো খাবার খেতে দেওয়া হয়। তাই এই প্রথাটির মধ্যে রয়েছে শোকের ছায়া, একটা বিয়োগের ব্যথা, তা আনন্দের নয়, বেদনার।

● বিবাহে লাল শাড়ী পরার নিয়ম কেন?

প্রাচীনকাল থেকেই বিবাহে লালশাড়ীর ব্যবহার চলে আসছে। আধুনিক বিজ্ঞানসম্মতে রঙ মানুষের মনকে প্রভাবিত করতে পারে। যেমন কোন হাল্কা বা সাদা রঙ মানুষের মনকে শান্ত ও স্নিগ্ধ করে তেলে। তেমনি কৃষ্ণচূড়ায় লাল রঙ প্রেমিক প্রেমিকার মনকে রাঙিয়ে তোলে। আবার কালো রঙ নির্বাক শোক ও প্রতিবাদের ভাষা হিসাবেই পরিচিত।

যাইহোক, লাল বেনারসী পরিহিতা নববধূকে যেমন মোহময়ী লাগে, তেমনি বরের চোখেও ঘনিয়ে আসে ভালোবাসার নেশা। বুকের মধ্যে জ্বলে ওঠে প্রেমের আগুন, উথলে ওঠে আবেগ। অর্থাৎ লাল রঙ যেন মানুষের কামনা-বাসনা, ভালোবাসার মূর্তপ্রতীক। যৌবনের দূত।

● মন্দিরের মাথায় ত্রিশূল থাকে কেন?

আগের দিনের সমস্ত উঁচু মন্দিরের মাথায় দেখা যায় এক বা একাধিক ত্রিশূল শক্তভাবে প্রথিত আছে। অনেকেই এগুলোকে ধর্মীয় কারণ বলে মনে করতেন। কিন্তু বর্তমানে বিজ্ঞানীরা দেখছেন ওইসব ত্রিশূলের সূক্ষ্ম ফলাগুলো বজ্রনিরোধক হিসাবে কাজ করে। যেমন শহরের সব উঁচু বাড়িতেই আজকাল ছাদের চারিদিকে কতকগুলো সরু লোহার রড বসানো হয় এবং এগুলোর শেষ প্রান্ত তারের সাহায্য মাটির গভীরে পোঁতা থাকে। যাকে লাইটনিং এরেষ্টর বলে। এসব লোহার রডগুলো আকাশের বিদ্যুৎকে পড়তে বাধা দেয়, ফলে বজ্রপাত হয় না। একই কারণে ঐসব মন্দিরকে ত্রিশূলের সাহায্যে বজ্রপাতের হাত থেকে রক্ষা করা হতো এবং এখনো হয়। সুপ্রাচীনকালে বিজ্ঞানের এই অগ্রগতির কথা ভাবলে কার না আজ গর্ব হয়।

● হাঁড়ির তলায় মাটি লেপা হয় কেন? 

আজও রান্নার হাঁড়ি-কড়াই-এর উপর মাটি লেপা হয়। অনেকে ভাবেন এতে শুধু কালি তোলা সহজ হয়। কিন্তু বর্তমানে আমরা জেনেছি মসৃণ তল অপেক্ষা অমসৃণ তল তাপ শোষণ করতে পারে অনেক বেশী। ফলে রান্নাও তাড়া-তাড়ি হয়। এই একই কারণে মসৃণ কড়া বা হাঁড়ির তলায় মাটি লেপে অমসৃণ করা হয়।

● মেয়েদের চুলে হাত দিতে নেই কেন? 

গ্রামাঞ্চলে এখনো এ প্রথা চালু আছে যে, পুরুষদের মেয়েদের চুলে হাত দিতে নেই, এমনকি তারা আত্মীয় হলেও।সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, মেয়েদের চুলের গোড়ায় সেক্স গ্রন্থি থাকে। যার ফলে চুলে হাত দিলে বা ধরলে কামনার উদ্রেক হয়। যা মোটেও কাম্য নয়। সে জন্যই এই প্রথা। সুতরাং এ প্রথার প্রয়োজনীয়তা নিশ্চয় সর্বকালেই সমানভাবে গ্রহণীয়।

● গোবর দিয়ে গ্রামের ঘর নিকানো হয় কেন?

যুগ যুগ ধরে এই প্রথা চলে আসছে যে, গ্রামের কাঁচা ঘর, উঠোন গোবর দিয়ে নিকোতে হয়। এবং বাড়ির আশেপাশেও গোবরজল ছিটোতে হয়। এই প্রসঙ্গে মনে রাখা প্রয়োজন, সে যুগে এমনকি এখনো গ্রামাঞ্চলে ফিনাইল বা ঐ ধরনের জীবাণুনাশক, পদার্থের চল নেই তাই গোবরের সাহায্যেই কাজটি করা হয়। বর্তমানে বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন যে, গোবরের মধ্যে যথেষ্ট জীবাণুরোধক ক্ষমতা রয়েছে। 

● মৃতদেহ ছুঁলে স্নান করতে হয় কেন?

কএখনো গ্রামাঞ্চলে এই প্রথা যথেষ্ট চালু আছে। অতীতে যখন মানুষ বহু দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যেত, তখন তার দেহ ও বিছানা ঘিরে থাকতো ঐসব মারাত্মক রোগজীবাণু। যেমন কলেরার মতো ছোঁয়াচে রোগজীবাণুও। ফলে তারা সাবধানতাবশতঃ মৃতদেহ ছুঁতো না। এবং ছোঁয়া গেলে স্নান করে কাপড়-জামা কেচে ঘরে ঢুকতো। এমনকি বাড়ি ঢোকার আগে আগুন দিয়ে পায়ের তলা সেঁকতো। প্রথাটির যথেষ্ট যুক্তি ছিল।

● নববধূকে কেন ভাদ্রমাস পালন করতে হয়? 

আগের দিনে নববিবাহিতা বধূকে ভাদ্রমাস পালনের জন্য বাবার বাড়ি পাঠানোই ছিল রীতি। এই সময় মেয়েরা পুরো একমাস বাবার বাড়িতে থাকে। এই প্রথাকেই বলে ভাদ্র পালন। কিন্তু কবে কি ভাবে এ প্রথার উৎপত্তি হলো তা স্বভাবতঃই জানতে ইচ্ছে করে। খুব সম্ভবতঃ মানুষ যখন কৃষিকার্যে যথেষ্ট উন্নতি করতে শুরু করে সে সময়েরই এই প্রথা।

কারণ ভাদ্র পালনের মূখ্য কারণ ছিল মেয়েকে কষ্টের হাত থেকে কিছুটা রক্ষা করা। কারণ সে সময় ভাদ্র মাসেই ধান উঠতো এবং ধান উঠলে তখনকার দিনে যে পরিমাণ কাজ সবাইকে করতে হতো তা শুনেই আশ্চর্য হতে হয়। তাছাড়া তখন মেয়েদের বিয়ে হতো নিতান্তই কম বয়সে। সুতরাং একটি কচি মেয়েকে পরিশ্রমের হাত থেকে রক্ষা করতে নিজের বাড়ি নিয়ে আসতো। এ প্রথার পিছনেও ছিল একটি সামাজিক যুক্তি।

● ঘরের মুখ উত্তর দিকে না করে দক্ষিণ দিকে করা হয় কেন? 

সুপ্রাচীনকাল থেকেই আমাদের দেশের ঘরবাড়ি দক্ষিণমুখী করার কথা প্রচলিত আছে। এর প্রধান কারণ আমাদের দেশের উত্তর দিকে রয়েছে বিস্তৃত পর্বতশ্রেণী দক্ষিণ দিকে রয়েছে ভারত মহাসাগর। এর ফলে দক্ষিণমুখী ঘরে যেমন গ্রীষ্মকালে মনোরম দক্ষিণী বাতাস পায়, তেমনি সারা শীতকাল জুড়ে রোদ পায় সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। ফলে সারা বছর-ই দক্ষিণমুখী ঘরে উপকার পাওয়া যায়।

● ঠাকুরের প্রসাদে তুলসী পাতা দেওয়া হয় কেন? 

খাবারে তুলসী পাতা রাখলে ঐ খাবারে আর রোগ জীবাণু আসতে পারে না। সেজন্য প্রসাদে তুলসীপাতা রাখা বিজ্ঞানসম্মত। তাছাড়া অনেকে জলেও তুলসী পাতা দিয়ে খায়। তাও ক্ষতিকর নয়। তুলসীর রস থেকে কর্পূরও তৈরী হয়। 

● দশমীতে কলমীশাক খাওয়া নিষিদ্ধ কেন?

দশমীতে পিত্ত ধাতু ক্রুর হয়, ফলে পেটের রোগের সমস্যা হতে পারে। তাছাড়া কলমীশাক মলরোধ করে ও মলে বায়ুর পরিমাণ বৃদ্ধি করে। 

● ত্রয়োদশীতে বেগুন খেতে নেই কেন?

আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মতে ত্রয়োদশীতে আমাদের শরীরের বায়ু মৃদু হয়। কিন্তু সেই সময় রক্তের গতি প্রবল হয়। তাই এই তিথিতে রক্ত সম্পর্কিত পীড়া হওয়া খুব স্বাভাবিক। বেগুন উষ্ণবীর্য তাই এই তিথিতে বেগুন খাওয়া নিষেধ।

● পঞ্চমীতে পাকা বেল খেতে নেই কেন ?

পঞ্চমীতে পিত্ত বৃদ্ধি হয়। সেজন্য এই তিথিতে পিত্তকর দ্রব্য ভক্ষণ করা ‘উচিত নয়। বিশেষ করে পাকা বেল। প্রকৃতির নিয়মে ও তিথিতে পেটের রোগ হতে পারে বা হাত পা জ্বালা করতে পারে। তাতে যদি পাকা বেলের সংযোগ ঘটে তো, সেসব সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে।

● তৃতীয়াতে পটল খেতে নেই কেন ? 

কৃষ্ণ ও শুক্লপক্ষের তৃতীয় তিথিতে পিত্ত ধাতু ও বায়ু অত্যন্ত উষ্ণ হয়। এর ফলে এই তিথিতে শরীরও উষ্ণ থাকে। আর পটলও রক্তে উষ্ণতা আনে। সে জন্য এই তিথিতে পটল খেলে বাতের ব্যথা, শোথ ও চুলকানি হতে পারে। ফলে এই তিথিতে পটল না খাওয়াই ভালো।

● কেউ শুয়ে থাকলে তাকে ডিঙ্গিয়ে যেতে নেই কেন? 

এই প্রথার পিছনে তেমন কোন উল্লেখযোগ্য কারণ নেই। যে একটি মাত্র কারণ আছে, তা হলো ডিঙ্গিয়ে যাবার সময় গায়ে পা ঠেকতে পারে বা পায়ের ধুলো গায়ে পড়তে পারে। যা সম্মানীয় ব্যক্তির নিকট অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়। সুতরাং এ প্রথাটিও মেনে চলা ভালো। 

যদি প্রবন্ধটি ভালো লেগে থাকে এবং আপনিও যদি এরকম কোন তথ্য আমাদের কাছে তুলে ধরতে চান তাহলে অবশ্যই কমেন্টে করুন।  প্রবন্ধটি আপনার বন্ধুর সঙ্গে শেয়ার করে দিন এবং বিজ্ঞান ও কুসংস্কার পার্ট ২ পড়ুন ।



0 Comments: