Headlines
Loading...
Science vs Superstition in bengali | বিজ্ঞান ও কুসংস্কার পার্ট ৫

Science vs Superstition in bengali | বিজ্ঞান ও কুসংস্কার পার্ট ৫

SCIENCE-vs-SUPERSTITION

আমাদের বিজ্ঞান ও কুসংস্কার সিরিজের এটি হলো পঞ্চম ও শেষ প্রবন্ধ (পার্ট ৪ পড়ুন)। এই প্রবন্ধে আমরা চেষ্টা করেছি বাকি যে সমস্ত বিষয়গুলি নিয়ে আমাদের প্রবন্ধে আলোচনা করা হয়নি তা এই প্রবন্ধে উল্লেখ করার।

● শাঁখ বাজানোর প্রয়োজনীয়তা কি?

এখনোও সন্ধ্যেবেলা শাঁখ বাজানোর প্রথা হিন্দু সমাজে প্রচলিত আছে। এই বিষয়টিকে আমরা ধর্মীয় আচার বলেই মনে করি কিন্তু এর পেছনে ‘জ্ঞানসম্মত কারণ আছে। বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে যে তথ্য আমাদের সামনে প্রস্তুত করেছেন তা হল শাঁখের আওয়াজ বিভিন্ন ইন্‌ফেকটিভ ব্যাকটেরিয়া সংক্রামক জীবাণু ধ্বংস হয়। ফলে সন্ধ্যের সময় মাটির কাছাকাছি অঞ্চলে যে সমস্ত জীবাণু থাকে তা ধ্বংস হয় বা বহুদূরে চলে যায়, ফলে এলাকাটি জিবাণুমুক্ত থাকে। এছাড়া শাঁখের আওয়াজ মশার উপদ্রব খানিকটা কমে যায়। ই প্রথাটি সম্পূর্ণ বিজ্ঞানসম্মত। আজকের দিনে এর প্রয়োজন আমাদের আছে অনেক বেশী। আর যিনি শাঁখ বাজান তাঁর হৃদয়ন্ত্রটিও সবল থাকে। 

● দড়ি বাঁধা পশুকে ডিঙ্গোতে নেই কেন?

দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা গরু-ছাগল প্রভৃতি পশুকে ডিঙ্গোলে সেটি মরে যেতে পারে বলে এমন প্রথা আছে। আসল কারণটি কিন্তু তা নয়। আসল কারণ হল বেঁধে রাখা পশুর দড়ি ডিঙ্গোবার সময় আমরা সবসময় সাবধান হইনা। ফলে কোন কারণে আচমকা যদি সেই দড়িতে টান লাগে তাহলে আমরা হোঁচট খেয়ে পড়ে যেয়ে বিপদগ্রস্ত হতে পারি। তাই সাবধানতার দিক থেকে প্রথাটি যুক্তিসম্মত। 

● ঘুমন্ত মানুষকে ডিঙ্গোতে নেই কেন?

ঘুমন্ত মানুষকে ডিঙ্গোলে তার গায়ে পা লাগতে পারে অথবা হঠাৎ করে জেগে উঠলে তিনি চমকে উঠতে পারেন যা শরীর বা শ্রদ্ধেয় ব্যক্তির সম্মানের দিক থেকে মোটেই সুখকর নয়। তাই প্রথাটি যুক্তিসম্মত। 

● রাত্রে লেখা বা সেলাই করা উচিত নয় কেন?

আগেকার দিনে এমনকি এখনও গ্রামে হ্যারিকেনের প্রচলন আছে। এর আলো খুবই সীমিত। এই স্বল্প আলোতে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থেকে লিখলে বা সেলাই করলে চোখের ক্ষতি হতে পারে, আঙ্গুলে সুঁচ ফুটে যেতে পারে তাই এই প্রথাটি বিজ্ঞানসম্মত। 

● তুলসীমঞ্চে প্রতিদিন জল দিতে হয় কেন?

স্নান করে এসে তুলসীমঞ্চে জল দেবার প্রথা বহুকাল ধরে চলে আসছে। জল না দিলে তুলসীগাছ মরে যেতে পারে। তুলসীগাছ বাড়িতে থাকার য়োজনীয়তা যে কত তা আজ বলে দেবার প্রয়োজন হয় না। তাই প্রথাটি বিজ্ঞানসম্মত।

● বিড়াল কুকুর কাঁদলে খারাপ কেন?

বাড়িতে বা আশেপাশে কুকুর বা বিড়াল কাঁদলে ঠাকুমা, দিদিমাদের বলতে শোনা যায়, ঐ লক্ষ্মীছাড়াটাকে তাড়াতো। নিশ্চয়ই কোন অমঙ্গলের খবর নিয়ে আসছে। কিন্তু বিজ্ঞান বলে, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আগে আবহাওয়া এবং তা পরিমণ্ডলের যে পরিবর্তন হয় তা পশুপাখীরায় সবার আগে বুঝতে পারে। তাই আতঙ্কে কান্না শুরু করে। সুতরাং প্রথাটির পেছনে বিজ্ঞানের অকাট্য যুক্তি আছে।

● বিবাহিতা মহিলারা লাল পলা ব্যবহার করে কেন? 

প্রাচীনকাল থেকে আমাদের সমাজে প্রচলিত রীতি, হিন্দু মেয়েদের বিয়ে সময় লাল পলা এবং সিঁদুর পরানো। এটা শুধু সংস্কার নয়। এর পিছে বিজ্ঞানের কিছু বক্তব্য আছে। বিজ্ঞানীরা রিসার্চ করে দেখেছেন সিঁদুর পরে মস্তিষ্ক শান্ত থাকে, স্থির থাকে এবং লাল পলা বা প্রবাল পরলে শরীরে অস্থিরতা বা চঞ্চলতা দূর হয়ে গিয়ে শরীরে একটা শান্ত, নম্র ভাব ফুটে ওঠে তাই জ্যোতিষবিজ্ঞানের মতে সংস্কারটি যুক্তিসম্মত।

● যাত্রাকালে পেছনে ডাকা উচিত নয় কেন ? 

যে কোন কাজ করবার মন নিয়ে যাত্রা করলে, যতক্ষণ সে কাজটি সম্পন্ন না হয় ততক্ষণ মনের ওপর কাজটি করার একটা অদম্য আগ্রহ থাকে। কিন্তু পেছন থেকে ডেকে বাধা দিলে সে কাজটি করার সেই মন হয়ত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এছাড়া পেছনে ডাকলে কাজটি বিলম্বিত হতে পারে। তাই সংস্কারটি মনোবিজ্ঞানের দিক থেকে যুক্তিযুক্ত।

● ঘরের দুয়ারে বসা উচিত নয় কেন ?

ঘরের দুয়ারে বসলে আজও ঠাকুমা দিদিমাকে বলতে শোনা যায় দুয়ােরে বসিস না, দেনা বাড়বে। যদিও এর পেছনে কোন সঠিক যুক্তি নেই। তবু মেনে চলাটা বোধহয় উচিত। কারণ দুয়ারে কেউ বসে থাকলে অন্যের চলাফেরা করতে অসুবিধা হতে পারে। অনেকসময় অসাবধানতাবশতঃ হোঁচট খেয়ে পড়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া গায়ে পা লাগতে পারে যা সম্মানীয় ব্যক্তির দিক থেকে অসম্মানের।

● কালীপূজার রাতে বাজী পোড়ানো হয় কেন? 

কালীপূজা এমন একটা সময় অনুষ্ঠিত হয় যখন সর্পকূল দীর্ঘবিশ্রামের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ে ফেরে। কাজেই যাতে তাদের দ্বারা আমাদের অনিষ্ট না হয় তা খেয়াল রাখা।

ধাম করে বাজী ফাটিয়ে তাদেরকে শীঘ্র গর্তে ঢুকতে সাহায্য করা হয়। তাছাড়া উৎসবের আনন্দ তো আছেই। তবে শহরাঞ্চলে আজকাল যে ভাবে বাজি পোড়ান হয় তা একান্ত ক্ষতিকর।

● ঝাঁটার খোলামুখ নীচের দিকে রাখা হয় কেন?

ঝাঁটার খোলামুখ উপর দিকে রাখলে কাঠিগুলো চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং আস্তে আস্তে ভেঙে যায়। অনেকসময় ঝাঁটাটি মাঝখান থেকে ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এতে আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। এবং অসাবধানতায় ঝাটার কাঠির খোঁচায় শারীরিক ক্ষতিও হতে পারে।তাই সংস্কারটি পেছনে বৈজ্ঞানিক যুক্তি না থাকলেও অর্থনৈতিক এবং শারীরিক যুক্তি হয়েছে।

● আয়না ভেঙে গেলে ব্যবহার করা উচিত কি? 

না। ভাঙা আয়না দিয়ে মুখ দেখার প্রচলন থাকলে অনেক সময় সাবধানতাবশতঃ হাত কেটে যেতে পারে। তাই এই প্রথা সাবধানতার দিকে থেকে সঠিক পদক্ষেপ। এছাড়া ভাঙা আয়নায় মুখ দেখলে নিজের মুখকেও ভালো দেখায় না। তাই ভাঙা আয়না ফেলে দেওয়াই উচিত কাজ।

● চালের পাত্র খালি করে খাওয়া উচিত নয় কেন? 

প্রাচীনকাল থেকে আমাদের সমাজে সংস্কার আছে যে, চালের পাত্র খালি র খেয়ে ফেলা উচিত নয়, এতে অলক্ষ্মী লাগে। এর পেছনে সবচাইতে যুক্তিযুক্ত কারণ যেটি, সেটি হল, বিপদ বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে আসতে পারে যখন সাধ্য থাকলেও চাল পাওয়ার মতো অবস্থা থাকে না। ফলে তখন না খেয়েও থাকতে হয়। ধরা যাক চালের পাত্রে চাল নেই সেদিনই অনেক রাত্রে কোন তথি বাড়িতে এল তখন অবস্থাটা হয় বেসামাল। তাই সংস্কারটির পিছনে সামাজিক এবং অর্থনৈতিক যুক্তি আছে। 

● শুভ কাজে যাবার আগে ডিম খাওয়া উচিত নয় কেন?

অনেকে বলে শুভ কাজে ডিম খেলে বা দেখলে সে কাজ ডিমের মত গোল । আসলে তা নয়। ডিম আমাদের শরীরে খুব তাড়াতাড়ি উত্তেজনা আনে। কারণ এতে আছে প্রোটিন এবং ফ্যাট। শুভ কাজে যাবার সময় শরীর ও মন শান্ত থাকা উচিত কাজেই এই সময় ডিম খেলে শরীরে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় এবং প্রেসার বেড়ে যেতে পারে, ফলে শুভ কাজ বিনষ্ট হবার সম্ভাবনা থাকে। তাই এই প্রথাটি বিজ্ঞানসম্মত।

যদি প্রবন্ধটি ভালো লেগে থাকে এবং আপনিও যদি এরকম কোন তথ্য আমাদের কাছে তুলে ধরতে চান তাহলে অবশ্যই কমেন্টে করুন। প্রবন্ধটি আপনার বন্ধুর সঙ্গে শেয়ার করে দিন । পূর্বের প্রবন্ধটির পার্ট ৪ পড়ুন।

0 Comments: